যেসব কারণে মানুষ কর্মহীন নিষ্পৃহ হয়ে পড়ে ডিপ্রেশন তার অন্যতম দেশের ১৬ শতাংশ মানুষ এখন ডিপ্রেশনে ভুগছে।
হতাশা বা ডিপ্রেশন কী?
ডিপ্রেশন আর সাধারণ মন খারাপ এক নয়। আমাদের সবারই বিভিন্ন কারণে মন খারাপ হতে পারে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারলে, প্রমোশন না হলে, স্বামী স্ত্রীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি হলে এমনকি বৃষ্টির দিন দেখলেও অনেকের মন খারাপ হয়ে যায় । কিন্তু ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ। রোগী দিনের পর দিন এমনকি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে মন খারাপের অনুভূতিতে আক্রান্ত থাকে। যাই করা হোক না কেন তার মন ভালো হয় না। পেশা পরিবার সমাজ সব ক্ষেত্রেই হতে থাকে সমস্যা।
![]() |
| হতাশা বা ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় |
হতাশা বা ডিপ্রেশনের কয়েকটি উপসর্গ
- কাজে উৎসাহ না পাওয়া।
- তিনি যে কাজ একসময় খুব আগ্রহ নিয়ে করতেন।
- খিদে কমে যাওয়া।
- নিজেকে ব্যর্থ ভাবা বা অহেতুক অনুশোচনায় ভোগ।
- ঘুম বেড়ে যাওয়া অথবা কমে যাওয়া।
- অস্থিরতা কাজে ধীরগতি।
- সব সময় আলস্য আর ক্লান্তি অনুভূতি।
- শরীরের শক্তি না পাওয়া।
ডিপ্রেশনে কোন কোন রোগীকে দিনের পর দিন বিছানায় কাটিয়ে দিতে দেখা যায়। এবং আত্মহত্যা চিন্তা এই উপসর্গগুলোর অন্তত পাঁচটি যদি কারো মধ্যে থাকে এবং টানা দুই সপ্তাহ বিরাজ করে তখন মনোবিজ্ঞানীরা বলেন তার একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের কিছু পরিবর্তন দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মস্তিষ্ক ফ্রন্টাল লোব এবং হিপো ক্যাম্পাসের আকৃতি ছোট হয়ে গেছে। কমেছে সেরোটনিন নর এপিনেফ্রিন এবং ডোপামিনের মত নিউরো ট্রান্সমিটারের উৎপাদন। এলোমেলো হয়ে গেছে তাদের সারকার্ডিয়ান রিদম বা দেহ ছন্দ।
সেই সাথে দেখা গেছে রেইন ঘুম বা অগভীর ঘুম চক্রেরও কিছু স্পষ্ট পরিবর্তন। তবে এগুলো কোনটাই রোগীকে বাইরে থেকে দেখে বা শুনে সনাক্ত করা সম্ভব নয়। এমনকি বিজ্ঞানীরা জানেনও না যে ডিপ্রেশন কেন হয়? আসলে জিন এবং পরিবেশ এ দুয়ের জটিল মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উদ্ভূত হয় ডিপ্রেশন।
হতাশা বা ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় কি ?
সাইকিয়াট্রিক মেডিসিন এবং সাইকোলজিক্যাল থেরাপি। সীমিত ক্ষেত্রে কখনো কখনো electro convers এর থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। এতে রোগী ব্রেনে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া আছে ট্রান্সক্র্যানিয়াল ম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন। তাই পরিচিত কাউকে ডিপ্রেশনে ভুগতে দেখলে মমতার সাথে তাকে এই প্রতিকারগুলো নিতে উদ্বুদ্ধ করুন। ভালো চিকিৎসকের সন্ধান থাকলে জানান এবং চিকিৎসকের কাছে গিয়ে যেসব বিষয় সে জানতে চাইতে পারে তা লিখে দিন। আসলে মানসিক সমস্যায় যারা আক্রান্ত হন তাদের পক্ষে এই প্রথম ধাপগুলো সামলানো খুব কঠিন হয়।
যে কারণে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ এর একটি জরিপ হলো একজন মানুষ মানসিক সমস্যা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পর্যন্ত গড়ে তার নাকি 10 বছর সময় লেগে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এত উন্নত আমেরিকারই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমাদের কি অবস্থা তা সহজে অনুমেয়। লজ্জার কারণে যদি মানুষটি সংকোচ বোধ করে তাহলে বলুন ডায়াবেটিস বা অ্যাজমা যেমন একটি রোগ চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। ডিপ্রেশনও তাই।
এটা কোন দুর্বলতা বা ব্যাক্তিত্যের সমস্যা নয় যে এ নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতে হবে। একটা হাত ভেঙে গেলে যেমন আমরা আশাবাদী থাকি যে একদিন এটা সেরে যাবে ডিপ্রেশনকে নিয়েও এভাবেই ভাবতে হবে। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়। কেউ যদি তার মানসিক অবস্থার যত্ন নেয় তাহলে খারাপ কিছু যদি তার সাথে ঘটেও যায় সে সামলে নিতে পারবে। অনেক মানুষের কথাই আমরা জানি যাদের জীবনে বহু ঘাত প্রতিঘাতে এসেছে কিন্তু ঘটনা গুলো তাদেরকে ডিপ্রেশনে ডুবিয়ে তো দেয়নি বরং নতুন প্রেরণা দিয়েছে।
হতাশা থেকে মুক্তি পেতে মেডিটেশন করুন
![]() |
| হতাশা বা ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় |


0 মন্তব্যসমূহ