আমেরিকায় মুসলমানের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে কেন কি কারণ থাকতে পারে এর অন্তরালের রহস্য কি? সেই বিষয়ে আজকে আলোচনা করব আজ থেকে বিশ বছর আগে আমেরিকায় মুসলমানের সংখ্যা ছিল ২০ লাখ আর বর্তমান সময়ে অর্থাৎ ২০ বছর পরে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখে। ঐ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে ২০০০ সালে আমেরিকায় মসজিদের সংখ্যা ছিল ১৩০০ টি আর বর্তমানে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮০০ টি। তারমানে দ্বিগণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে পরিসংখানে আরো বলা হয়েছে যে ২০১৫ সালে হিন্দু ধর্মের মানুষের চেয়ে আমেরিকার মুসলমানের সংখ্যা হবে দ্বিগুণ । ইহুদিদের চেয়ে হবে দেড় গুণ। আরো বলা হয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যেই ইহুদিদের ছাপিয়ে যাবে মুসলিমের সংখ্যা। এইযে পরিসংখ্যান বা তথ্য উপাত্ত পাচ্ছি এর কারণ কি? এটি নিয়ে আমেরিকার মূলধারার সমাজতত্ত্ববিদরা গবেষণায় লিপ্ত হচ্ছেন তথ্য সংগ্রহ করছেন যে কি কারণে আমেরিকার সমাজে মুসলমানদের প্রভাব প্রতিপত্তি এবং জনসংখ্যা বাড়ছে।
 |
| Muslim woman |
মূলত তিনটি কারণ রয়েছে
প্রথম কারণ হচ্ছে
ইসলাম ফোবিয়ার নেতিবাচকতা ইতিবাচকতায় পরিণত হয়েছে। নাইন ইলেভেনের টুইন টাওয়ারে হামলার পর সমগ্র বিশ্বে ইসলাম ফোবিয়া মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন সমাজে মূলধারার নাগরিকরা ভাবতেন ইসলামী মতবাদ মানেই হচ্ছে সন্ত্রাসী মতবাদ। এই যে নেতিবাচক প্রোপাগান্ড এটি আসলে ইতিবাচক হয়েছে। প্রচুরসংখ্যক মার্কিন নাগরিক যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন যে কেন এই ধর্ম সহিংসতা উসকে দেয়। ইসলাম সম্পর্কে জানতে গিয়ে তারা দেখেছেন যে এই তথ্যটি সঠিক নয়। ইসলামে সবচেয়ে শান্তির ধর্ম এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। তারা কোরআন পড়েছেন হাদিস পড়েছেন রাসুল সাঃ এর জীবনী পড়েছেন। ফলে কি হয়েছেন অধিকাংশ মার্কিনী ইসলামের উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এর পরিপেক্ষিতে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি, যে মূল ধারার সমাজে ইসলাম গ্রহণ করার প্রবণতা বেড়েছে।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে
দ্বিতীয় কারন কি ? সেটি হচ্ছে মুসলমানদের অহিংস নীতি আপনারা নিশ্চয়ই জানেন জানেন আমেরিকার সমাজে মুসলমানরা খুব অহিংস পদ্ধতিতে আদর্শ প্রচার করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা সেখানে আছেন বা আমরা যদি উপমহাদেশের কথা বলি তাহলে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানরা খুবই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের সৌন্দর্য প্রচারের ক্ষেত্রে সে ক্ষেত্রে তারা খুব আন্তরিকতার সঙ্গে দরদ দিয়ে ইসলামের আদর্শ সর্বস্তরের তুলে ধরছেন। এই যে অহিংস পদ্ধতি এটি আসলে কাজে লেগেছে। একজন মার্কিন নাগরিক বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম মার্কিন নাগরিক তিনি পাশে দাঁড়াচ্ছেন সহযোগিতা করছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আমরা এখন কি দেখছি যে আমেরিকার সমাজ মূল ধারার যে রাজনৈতিক দলগুলো আছে সেগুলোর মধ্যেও মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলেই তারা ভালো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন এবং এর মধ্য দিয়ে ইসলামকে ছড়িয়ে দেবারও এটি প্ল্যাটফর্ম তারা পাচ্ছেন প্রচুর সংখ্যক মসজিদ মাদ্রাসা মক্তব তৈরি হচ্ছে। ইসলামিক স্কলাররা স্বাধীনভাবে বক্তব্য বিবৃতি ও দিতে পারছেন। মার্কিন সমাজের এটি অবশ্যই ইতিবাচক যে কারো বক্তব্য প্রকাশের দ্বারা তো সেই ধারার উপর ভর করেই মুসলিম স্কলাররা কিন্তু অহরহ সভা সেমিনার করে যাচ্ছেন। ফলে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। সুতরাং আমি বলব যে অহিংস্র নীতির কারণে মুসলমান এবং ইসলামের আদর্শ দ্রুততম গতিতে ছড়িয়ে যাচ্ছে।
তৃতীয় কারণ হচ্ছে
মার্কিন মূল ধারার সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়। প্রিয় বন্ধুরা আপনারা জানেন যে মার্কিন উন্নত জীবন ব্যবস্থায় অধিকাংশ মানুষই ভালো আছেন এটা আমাদের একটা স্থায়ী ধারণা। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা যে মার্কিন সমাজেও এখন ভেঙে যাচ্ছে বিশেষ করে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হচ্ছে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কেন? এর কারণ হচ্ছে লিফটুগেদার পরকীয়া বিবাহ বহির্ভূত আরো অন্যান্য সম্পর্কের বাতাবরণ। আমার স্কুল গামি মেয়েদের কে ধর্ষিত হবার প্রবণতার যদি আমরা হার দেখি তাহলে দেখবো উর্ধ্বমুখী। এভাবে মার্কিন সমাজ ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। মূলধারার মার্কিনীরা তারা আসলে অস্বস্তি অশান্তিতে রয়েছে। এই যে অস্বস্তি অশান্তি বা পরিবার ভেঙে যাওয়ার দিক এই দিক থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনেকেই শান্তির একটি পথ খুঁজছেন। অবশেষে তারা ইসলামের দিকে ঝুঁকছেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক।
 |
মুসলিম পরিবার |
সুতরাংআমিরিকায় দ্রূত মুসলিম বৃদ্ধির তিনটি কারণকে আমরা সামনে রাখতে পারি। ইসলাম ফোবিয়ার নেতিবাচক প্রচারণা ইতিবাচক এ পরিণত হওয়া দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে মুসলমানদের অহিংস পদ্ধতি এবং তৃতীয় হচ্ছে মার্কিন সমাজের পরিবার ভেঙে যাওয়া বা মূল্যবোধের অবক্ষয়। (সূত্র: চেন্জ টিভি)
0 মন্তব্যসমূহ