১৬ ডিসেম্বর মুসলিম হিসেবে কিভাবে বিজয় দিবস পালন করা উচিত?

সুখের সুস্থতা ভাই বোন আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কোন না কোন পর্যায়ে এসে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার একান্ত অনুগ্রহ এবং মেহেরবানীতে বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করবার সুযোগ তৈরি হয়। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে অথবা পারিবারিক জীবনে কিংবা সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক সময় আল্লাহতালার অনুগ্রহে আমরা বিজয় লাভ করে থাকি। আমাদের জীবনে যদি কখনো বিজয় আসে বিজয়ের হাসি হাসবার সুযোগ তৈরি হয় বিজয় আনন্দ উদযাপন করার সুযোগ তৈরি হয়।তাহলে আমাদের বিজয়কে আমরা কিভাবে উদযাপন করবো?

১৬ ডিসেম্বর  মুসলিম হিসেবে কিভাবে বিজয় দিবস পালন করা উচিত
বিজয় দিবস 

মুসলিম হিসেবে কিভাবে বিজয় দিবস পালন করা উচিত?

কোন বিজয় লাভ করলে আমরা কি করব? সে বিষয়ে কোরআনে আল্লাহতালা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় আমাদেরকে কিছু দিক এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। কোরআনে কারীমে ছাব্বিশ নম্বর পাড়ায় একটি সূরাই রয়েছে যে সূরার নাম হল সূরাতুল ফাতেহ। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই সূরার ভেতরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপট হুদাইবিয়ার সন্ধি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। এজন্য সুরার নাম হলো সুরাতুল ফাতেহ যার অর্থ হল বিজয়। অর্থাৎ বিজয়ের সূরা বলে আল্লাহ তাআলা একটি সূরা নাযিল করেছেন।

আর পবিত্র কোরআনের একদম শেষের দিকে ৩০ নম্বর পারায় একটি সূরা রয়েছে যেটাকে সূরা নাসর বলা হয়। সাহায্য অর্থাৎ নাসর শব্দের অর্থ হল সাহায্য। এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহর সাহায্যের সূরা বলে। এই সূরায় মহান আল্লাহতালা সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যখন আমাদের জীবনে বিজয় আসবে তখন আমরা কি করব?

একজন মোমেনের জীবনে যখন বিজয় আসবে সেটি যত ক্ষুদ্র হোক অথবা যত বৃহৎ হোক সেটা ব্যক্তির জীবনের কোন বিজয় হোক অথবা রাষ্ট্রীয় কোন বিজয় হোক। সকল বিজয় জন্য আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা একজন মুমিনের জন্য চারটি করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এরশাদ করেছেন: اذا زى نصر الله والفت যখন আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় আসবে।

ورايت الناس يدخلون في دين الله افواجاআর আপনি দেখবেন যে মানুষেরা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করছে।কারণ মুসলমানদের বিজয় যখন আসবে তখন অন্যরা মুসলমানদের দলে আসবে এটি স্বাভাবিক। আল্লাহতালা ওই মুহূর্তে আমাদের করনীয় কি সে বিষয়ে বলছেন,

فسبح بحمد ربك واستغفره انه كان توابا এমন অবস্থায় আপনি আপনার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন। এবং আপনার রবের প্রশংসা জ্ঞাপন করুন এবং তার কাছে ইস্তেগফার করুন ক্ষমা প্রার্থনা করুন। কারণ নিশ্চয়ই তিনি যে তার কাছে ফিরে আসে তওবা করে তিনি তার তওবা কে কবুল করেন। 

সকল বিজয় জন্য মুমিনের জন্য চারটি করণীয় 

সুপ্রিয় পাঠক এই সূরায় চারটি করনীয় আমরা খুঁজে পেলাম যদি আমাদের জীবনে কখনো বিজয় আসে করতে এই চারটি কাজ আমাদের করতে হবে। সেটি ব্যক্তিগত বিজয় হোক বা রাষ্ট্রীয় বিজয় হোক।


প্রথম কাজ হল,

আমাদের বিজয়টি কে আল্লাহর দিকে সম্বোধন করতে হবে। নিশ্চয়ই আমাদের বিজয় পেছনে যদি কোন মানুষ অবদান থাকে তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাবো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মানুষের যদি কেউ কৃতজ্ঞতা আদায় না করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করল না। আমাদের কোন বিজয়ের পেছনে যদি কারোর কোন অবদান থাকে তার অবদানকে আমরা স্বীকার করব। কিন্তু মূলত ভাবে এবং সবচেয়ে বড় করে আমরা আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃতজ্ঞ আদায় করব। এটি সব সময় আমাদের মাথায় রাখতে হবে বিজয় উদযাপনের সময়।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় করণীয় হলো,

আপনার রবের প্রশংসা মাখা পবিত্রতা আপনি বর্ণনা করুন। অর্থাৎ পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং  প্রশংসা জ্ঞাপন করুন। এখানে দুটি কাজ আমরা পেয়ে গেলাম। আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা বর্ণনা করে আমরা বলবো সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ প্রশংসা মাখা পবিত্রতা একসঙ্গে করলে আমরা বলব সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি। এবং যেকোনো ভাবে উপায় আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা মাখা পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি। আর সে সাথে আল্লাহ তায়ালা আমাদের বিজয় দিয়েছেন সেজন্য আমরা শুকরিয়া আদায় করে আলহামদুলিল্লাহ বলবো।

আর চতুর্থ করণীয় হলো,

আস্তাগফিরহু আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করা ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেন ক্ষমা প্রার্থনা করব তার কারণ হলো বিজয় অর্জন করতে গিয়ে আমাদের ভুল ত্রুটি হতে পারে কোন ত্রুটি বিচ্যুতি হয়ে যেতে পারে এটা যেন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মাফ করে দেন সেজন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থনা করব। বিজয় অর্জন করে আমাদের মনে অহংকার তৈরি হতে পারে। নিজেদের গৌরব গাধা কীর্তি কলাপ এগুলোকে আলাপ আলোচনা করে আমরা এগুলো ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে অহংকারের ভিতরে নিমজ্জিত হতে পারি। সেজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয় বিজয় দিবস উদযাপনে। মাথা কে নিচু করতে হয় আল্লাহতালার দরবারে। তাহলে বিজয় জীবনে বারবার আসে।

সম্মানিত পাঠক সূরা নাসরের ভেতর বিজয় দিবস উদযাপনের চারটি করণীয় আমরা পেলাম। প্রথমত স্বীকার করা দ্বিতীয়ত পবিত্রতা বর্ণনা করা তৃতীয় প্রশংসা করা চতুর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

 (বর্ননায় শায়খ আহমাদুল্লাহ)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ