গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় ফল জাম। অন্যান্য মৌসুমি ফলের তুলনায় জাম খুব কম সময়ের জন্য বাজারে আসে। দেশীয় এই ফলটি পুষ্টিগুণে অনন্য। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন জাম খাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। নিয়ম না মেনে জাম খেলে পুষ্টির বদলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। জামের উপকারী দিক এবং জাম খাওয়ার সতর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে আজকের ফিচারে।
![]() |
| জাম |
জামের পুষ্টি গুন উপকারিতা
পুষ্টিগুণে অনন্য জামেয়াছে ভিটামিন সি পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান রক্ত পরিশোধনকারী হিসেবে দারুন কাজ করে। তাই রক্তের দূষিত পদার্থ শোষণ করে রক্ত পরিষ্কার করার কাজ করে যাম। রক্তের প্রয়োজনীয় উপাদান হিমোগ্লোবিন এবং আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে জাম কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। রক্ত পরিষ্কার করার পাশাপাশি জাম ত্বককে সুস্থ রাখে। এছাড়া চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও জাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে এবং মানসিক চাপের আশঙ্কা রাস করতে জাম অনেক উপকারী।
জামে থাকা বিভিন্ন গুনাগুন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এন্ড ইনফেকটিভ ও এন্টি ম্যালেরিয়া বৈশিষ্ট্য। জামের এন্টিব্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ফল অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংক্রমণ কে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। জামে মালিকা সিট জালিকা সিড অক্সালিক এসিড-বেটিলিক এসিড এবং টেনিস আছে সব উপাদান বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ রোধে কাজ করে। রোগের সংশোধন রোধের সাহায্য করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধেও জামের ভূমিকা রয়েছে।
![]() |
| জাম |
উপকারিতা
জামে আয়রন ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম এর মত প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান দাঁত ও হার মজবুত করার পাশাপাশি শরীরকে নানা ভাবে শক্তি যোগায়। জামে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার আছে যা লিভারকে সক্রিয় করে এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দূর করতেও জামের ভূমিকা রয়েছে। এই ফল আমাশয় ও পেট ফাঁপা সহ হজম জনিত বিভিন্ন সমস্যা নিরাময়ের কাজ করে। এছাড়া পেট ব্যথা বাতের ব্যথা এবং ডায়াবেটিস ছাড়াতে জাম কার্যকরী ভূমিকা রাখে। গরমের শরীর ঠান্ডা রাখতেও জাম খুবই উপকারী এক ফল। জ্যামে ফসফরাস ও আয়োডিনের মত খনিজ গুলো একসঙ্গে থাকায় এই ফল খেলে শরীর আর্দ্র থাকে। তাই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে জাম খাওয়া যেতে পারে।
সতার্কতা
জামের অনেক পুষ্টিগুণ থাকলেও এই ফলটি খাওয়ার আগেও পড়ে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জাম খাওয়ার আগে অবশ্যই লবণ পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন ১০০ গ্রামের বেশি জাম খাওয়া ঠিক নয়। খালি পেটে জাম খাওয়া মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। খালি পেটে জাম খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বুক জ্বালাপোড়া এবং বদহজম হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে জাম ও হলুদ কখনো একসঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়। জাম খাওয়ার পর হলুদ দিয়ে তৈরি খাবারও এড়িয়ে যাওয়া উচিত। জাম খাওয়ার আগেও পরে প্রায় দুই ঘন্টা দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার যেমন মাখন পনির দই ইত্যাদি খাওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিস রোগী গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জাম খাওয়া উচিত।


0 মন্তব্যসমূহ