ইসলামি সংস্কৃতির আদ্য উপাদান কি? এবং কয়টি ?

ইসলাম হলো  মানব জীবনের  এক মহান জীবন দর্শন । এই মহান জীবন দর্শন   মানব জীবনের  অসম্পূর্ন জ্যামিতি   যত্নের সাহায্যে  পরিচালনা করে  আর বিনিময়ে  মানব জাতির  কার্যকর জীবন ও পরিবেশে যে কৃষ্টি সত্যরুপে প্রমানিত হয়  এটাই হলো ইসলামি সংস্কৃতি ।    


ইসলামি সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান
ইসলামি সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান



ইসলামি সংস্কৃতি ও তার উপাদান 


সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী (র) তার রচিত গ্রন্থ  ‘ইসলামি সংস্কৃতির মর্মকথা’  এতে  সংস্কৃতির  মুখ্য উপকরন পাঁচটি বলে  বর্ননা করেছেন । 

১. মানব জীবন সম্বন্ধে  উপলব্ধি 

জীবন নিয়ে তার  উপলব্ধি কি ? এই ধরায় জীবন  মানব জাতিকে  কি সম্মান সমর্পন করে ? কৃষ্টের চোখে ধরনীর সত্য কি ? জগতের  সঙ্গে মানব জাতির সম্বন্ধ কি? মানব জাতি দুনিয়ায় কিভাবে জীবন যাপন করবে ?এই জীবন দর্শন সম্বন্ধীয়  প্রশ্ন গুলো মানুষের জীবনের সকল কাজে প্রভাব খাটায় । এই অবলোকনের পরিবর্তন হলে   সংস্কৃতির অখন্ড ভাবমুর্তির পরিবর্তন ঘটে । 

জীবন দর্শন  সম্পর্কে  আবদুল মান্নান তালিব বলেছেন:

জীবন চর্চাই সংস্কৃতি  এ কথা ঠিক  । তবে এই জীবন চর্চার পিছনে  যে চিন্তা ও জীবন দর্শন  অলক্ষ্যে  কলকাঠি নেড়ে চলছে  সেটিই হচ্ছে  সংস্কৃতির আসল নিয়ন্ত্রক ও পরিকল্পক  .........মানুষের সংস্কৃতি শুধুমাত্র  জীবন চর্চা নয় , পরিকল্পিত  চিন্তা ও জীবন দর্শনের ভিত্তিতে  জীবন চর্চার নাম । 



২. জীবনের চূড়ান্ত অভিপ্রায়

জীবন অবলোকনের সাথে  দ্বিতীয় যে জিজ্ঞাসা  নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত তা হলো  জীবনের চুড়ান্ত অভিপ্রায় । ভুমন্ডলে জীবনের অভিপ্রায় কি ?মানবের এত ব্যকুলতা , এতো  পরিশ্রম- সাধনা , এতো সংঘাত-লড়াই  কিসের জন্য ? কোন বাঞ্ছিত অভিলাষে মানুষের ছুটে চলা কর্তব্য ?কোন পরিসমাপ্তির কথা মানুষের সর্বক্ষনে মনে রাখা উচিত ? মূলত এই উদ্দ্যেশিত জিজ্ঞাসাই মানুষের বাস্তব জীবনের গতিপথকে পরিচালিত করে । 

 

৩. নিজস্ব বিশ্বাস ও ভাবাদর্শ 


তৃতীয় জিজ্ঞাসা এই যে   আলোচিত কৃষ্টিতে   কোনো   বিশ্বাস ও চিন্তা চেতনার  ভিত্তি মানুষের মন মানসকে  কোন ছাচে   প্রভাবিত করে ? মানব মন ও মস্তিস্কে  কি রকমের ভাবনা সৃষ্টি করে ?এবং তার অভ্যন্তরে  এমন কি ফলজনক সামর্থ্য আছে যা তার দৃশ্যমান  অভিলাষের মাধ্যমে মানুষকে এক বৈচিত্র ধারার  বস্তুগত জীবন ধারনের  জন্য  জাগরিত করে । মানুষের কাজের ক্ষমতা  তার চিন্তা ক্ষমতারই  প্রভাবাধীন । তার মন এবং তার চিন্তা ধারা যেভাবে গঠিত হবে , তার গভীরে ভাবাবেশ- বোধশক্তি  ও অভিপ্রায় ঠিক তেমনি উৎপত্তি হবে । আর তার আদেশ অনুযায়ী  তার দেহাংশ গুলো কাজ করতে থাকবে । 


৪. ব্যক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি


সংস্কৃতি একজন মানুষকে  উত্তম চরিত্র প্রশিক্ষনের  ধারা  তার আপন নমুনা অনুযায়ী  সফল জীবন যাপনের জন্য প্রস্তুত করে ? কোন ধারার  প্রকৃতিগত ধর্ম বা গুন সে মানুষের অন্তরে  সৃষ্টি করে এবং তা  উন্মেষিত করার  চেষ্টা করে ?সংস্কৃতির যথার্থ অভিসন্ধি সমাজব্যবস্থার উন্নতি করা কিন্তু ব্যক্তি উপকরন দিয়েই  সেই সমাজ সৌধ নির্মিত হয় । ব্যক্তি  প্রশিক্ষনের এই সাংস্কৃতিক  উপাদানটি  ইসলামের গৌরবময় দিন গুলোতে  পরিপুর্ন রুপেই বিকাশিত হয়েছিল । 



৫. সামাজিক ব্যবস্থাপনা 

সংস্কৃতির মৌলিক উপাদানের পঞ্চমটি হচ্ছে  সামাজিক ব্যবস্থাপনা । সে কৃষ্টিতে নানা রকম ভাবের  প্রেক্ষিতে  মানুষে মানুষে কিভাবে সম্পর্ক স্থাপন করা হয় । তার আপনজনদের সাথে , অধীনস্থ  লোকদের সাথে , তার উপরস্থ  লোকদের সাথে তার নিজ কৃষ্টের অনুসারিদের সাথে  তার কৃষ্ট বহির্ভূত লোকদের সাথে  কি রকমের  সম্পর্ক রাখা হয়েছে ? বস্তুত এ প্রশ্ন গুলোর  ভেতর নৈতিক চরিত্র , সামাজিকতা ,আইন কানুন ,রাজনীতী এবং আন্তরজাতিক  সম্পর্কের সকল বিষয় এসে  যায় । 



পৃথিবীর সকল সংস্কৃতি  এই পাঁচটি  মৌলিক উপাদান নিয়েই গঠিত । ইসলামি সংস্কৃতির  উদ্ভব  হয়েছে এই  উপকরন গুলোর সাহায্যেই । 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ