ঘুম থেকে উঠার পর স্বপ্নের জগতকে যেমন ঝাপসা মনে হয় বাস্তবকে মনে হয় আসল সত্য। মৃত্যুর পর আপনার মনে হচ্ছে পুরো জীবনটাই জেনে ছিল যে স্বপ্ন। যা আপনি ঘুমন্ত অবস্থায় কাটিয়েছিলেন। ফেরেশতাদের সাথে অলৌকিক সব অভিজ্ঞতাগুলোর পর এখন আপনি ফিরে এসেছেন আপনার কবরে। আপনাকে মাটি দেয়া হয়ে গেছে।
![]() |
| কেমন হবে কবরের জীবন?জীবন - মৃত্যু দ্বিতীয় পর্ব । |
আপনি শুনতে পাচ্ছেন আপনার কাছের মানুষেরা দোয়া করছে। জিকির করছে আপনাকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না। কিন্তু আপনিও জানেন তারাও জানে তাদেরকে যেতেই হবে। প্রত্যেক মানুষকে তার ব্যক্তিগত পথ পাড়ি দিতেই হবে। কবরস্থান থেকে প্রস্থান করা শেষ মানুষটির পদধ্বনি আপনার কানে পৌঁছয়। এরপর সব নিশ্চুপ। একটি মুহূর্ত পার হলো না সারাদিন পার হয়ে গেল বোঝা গেল না। কারণ এই জগতে সময়ের হিসাব মিলানো কষ্ট। হঠাৎ করি আপনি অনুভব করলেন আপনার কবরটা ছোট হয়ে আসছে।
মাঝি আপনাকে চেপে ধরছে। চিৎকার করে ওঠার আগেই মাটি আপনাকে এমন ভাবে চেপে ধরল আপনার মনে হল আপনার দেহের প্রতিটি অঙ্গ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এর পরেই আপনাকে মাটি ছেড়ে দিল। এটা কি কবরের আজাব ছিল ?
আপনি কি তাহলে শাস্তি পাওয়া মানুষের দলে? আপনি মনে পড়লো রাসুল সাঃ এর সেই কথাগুলো তিনি বলেছিলেন যদি মাটির এই চাঁপ থেকে কেউ বাঁচত সে হতো সা'দ ইবনে মু'আয (রা)। যার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল। তার জানাজায় শরিক হতে ৭০ হাজার ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে এসেছিল। তাকেও মাটি চেপে ধরেছিল। কারণ এটাই আল্লাহর হুকুম। আমরা মাটি থেকে এসেছি আবার মাটিতেই মিশে যাবো।
মুনকার ও নাকীর
এরপর আপনাকে উঠছি বসানো হলো দেখতে ভয়ঙ্কর দুজন ব্যক্তি আপনার সামনে উপস্থিত হলো । মুনকার আর নাকীর কাউকে সান্ত্বনা দেয় না। তারা নম্রভাবে কথা বলে না তাদের কর্তব্য একটাই তারা আমাদের পরীক্ষা করবে। অজুহাত দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আপনাকে দেখে বলল মান রাব্বুক? তোমার রব কে? তাদের চেহারা দেখে আপনি ভেবেছিলেন আপনার গলা দিয়ে হয়তো কোন শব্দই বের হবে না। কিন্তু যে আল্লাহকে সারা জীবন বিশ্বাস করেছেন যে আল্লাহর আদেশ পালন করার সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন যে আল্লাহর অমান্য করার পর তার কাছেই ক্ষমা চেয়ে মাথা নত করেছেন সেই আল্লাহর পরিচয় জানতে চাওয়ার পর আপনি কি করে চুপ থাকেন? আপনার ঠোটার জিহবা যেন আপনার মস্তিষ্কের অপেক্ষা না করেই বলে উঠলো আমার রব আল্লাহ।
তার পর প্রশ্ন করল ওমা দীনুকা? তোমার দিন কোনটা? আপনি বললেন আমার দিন ইসলাম। অবশেষে তারা জিজ্ঞেস করল তোমার কাছে যাকে পাঠানো হয়েছিল তার ব্যাপারে তুমি কি বলো? তার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে আপনার মুখে হাসি ফুটে গেল। আপনি বললেন তিনি হচ্ছেন আল্লাহর বান্দা তার প্রেরিত রাসুল আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা এবং তার রাসুল। সাথে সাথেই যারা বলে উঠলো তুমি সত্য বলেছ।
কেমন হবে কবরের জীবন?
এবং সাথে সাথে আপনার কবরটা প্রশস্ত হয়ে যেতে থাকে দেখতে না দেখতে আপনার কবরটি বিরাট আকৃতি ধারণ করে। আপনার সামনে একটি চিত্র তুলে ধরা হয় এটা কি একটি ভিডিও নাকি তার চেয়ে আধুনিক কোন প্রযুক্তি। তা আপনার জানা নেই। সেটা নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই কারণ আপনি হয়তো ভঙ্গ হয়ে দেখতে পেলেন সেখানে একটি ভয়ানক জায়গা দেখানো হচ্ছে। এখানে চারিদিকে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে এবং হিংস্র সব জীব কারো জন্য অপেক্ষা করছে। আপনাকে জানানো হলো এটাই আপনার গন্তব্য হয়ে যেত যদি আপনি আল্লাহর অমান্য করতেন।
পথভোলা হয়ে আপনার জীবন কাটিয়ে দিতেন। এরপর অন্যদিকে আরেকটি চিত্র তুলে ধরা হলো এবং এবার আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেলেন। যার দিকে তাকিয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়া যায়। আপনাকে বলা হলো এটাই হবে আপনার সর্বশেষ গন্তব্যস্থল। এটাই হলো জান্নাতের সেই ঘর যার জন্য আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। এবং যেখানে আপনি শীঘ্রই ফিরে যাবেন।এই মনমুগ্ধ দৃশ্য দেখতে দেখতে আপনার কবরের জীবন শুরু হয়।
কোন এক পর্যায়ে আপনার সাথে দেখা করতে আসবে আপনার আত্মীয় স্বজনেরা যারা আপনাকে ছেড়ে অনেক আগে পরকালের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। একবার ভেবে দেখুন কতটা আন্তরিক হবে সেই মিলন। যে মাকে যে বাবাকে যেই নানা নানি দাদা-দাদীকে আপনি কবর দিয়েছিলেন। বহু বছর আগে। পরকালের জীবনে এসে তাদের সাথে আপনার সাক্ষাৎ হবে তারা দুনিয়ার জীবনের খবর জানতে চাইবে তারা আপনার সাথে গল্প করবে গল্প করতে করতে আপনার এক বন্ধুর কথা উঠে যায় তারা বলে অমুক কেমন আছে।
আপনি অবাক হয়ে যান আপনি বলেন ওমুক তো আরও তিন বছর আগেই মারা গেছে কেন তোমরা কি তার দেখা পাওনি? সবাই চুপ হয়ে যায় সবাই বুঝতে পারে আপনার সেই বন্ধুটি ইমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেনি। কবরের আজাব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি।
অস্বীকারকারিদের কবরের জীবন কেমন হবে?
যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারল না মৃত্যু থেকে শুরু করে জাহান্নাম পর্যন্ত তার পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে খারাপ হতে থাকে। যখন তাকে আসমান থেকে জমিনে ছুড়ে ফেলা হয় যখন মাটি তাকে হিংস্রভাবে চেপে ধরে এরপর যখন মুনকার নাকির এসে তাকে উঠিয়ে বসায় আর জিজ্ঞেস করে তোমার রব কে? সে কোন উত্তর দিতে পারেনা। ধান্দা করতে থাকে তাকে বলা হয় মা দিনুক ?
আবারও সে আমতা আমতা করতে থাকে। কোন উত্তর দিতে পারেনা। তাকে প্রশ্ন করা হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে নিয়ে তার ব্যাপারে সে কি জানে সে অনিশ্চিত হয়ে বলে আমি শুনেছিলাম লোকে এই এই বলতো। তখন মুনকার নাকির বলবে তুমি মিথ্যা বলেছ। তার মাথায় শক্ত লোহা দিয়ে এত জোরে আঘাত করা হবে যে তার চিৎকার শুনতে পাবে আশেপাশে প্রতিটি সৃষ্টি। শুধু মানুষ আর জ্বীন ব্যতীত। এরপর তাকে জান্নাতের একটি দৃশ্য দেখানো হবে। তাকে বলা হবে এটাই তার গন্তব্য হতে পারতো যদি সে আল্লাহর আহবানে সাড়া দিত।
তারপর তাকে জাহান্নামে দৃশ্য দেখে বলা হবে সে নিজেই এই গন্তব্যটি নিজের জন্য বেছে নিয়েছ। জান্নাতি সে কি পেতে পারতো আর জাহান্নামে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে তার সরাসরি দেখার পর তার মানে এমন অকল্পনীয় অনুতাপ জন্ম নেয় যে আর কোন শাস্তি না থাকলেও শুধু সেই অনুতাপটাই তার জন্য আজাব হিসেবে অসহনই হয়ে পড়তো। আপনার হয়নি আপনি শুয়ে আছেন আপনার প্রশস্ত কবরে জান্নাতের আলোয় আলোকিত শুধুমাত্র আপনার রবের অসীম রহমতের কারণে। এই সুখময় আবাসে আপনি অপেক্ষা করতে থাকেন সেই দিনটির জন্য যেদিন সবাইকে একটি ময়দানে একত্রিত করা হবে।
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ