সেলফি নিয়ে ভয়াবহ তথ্য.. আমাদের সকলের জানা দরকার


জনপ্রিয় সেলফি

যদি বহুল ব্যবহৃত শব্দের কোন তালিকা হয় তাহলে সেল্ফি শব্দটি খুব সম্ভবত প্রথম সারিতে থাকবে। এর জনপ্রিয়তা এখন এতই যে শহর থেকে পল্লী ছেলে থেকে বৃদ্ধ সবাই সেলফি তুলতে ব্যস্ত। হাত-পা বাঁকিয়ে নিজের মুখ এদিক সেদিক করে রীতিমতো কসোত করে হাত দিয়ে অথবা সেলফি স্টিক দিয়ে সেলফি তুলতে দেখা যায়। তাকে সঙ্গে সঙ্গেই তার পেছনে ইতিহাস লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়। 

সেলফি  ভাইরাস

বলা হয় সেলফি রীতিমতো ভাইরাসের মতো মাথার ভেতর ঢুকে গেছে। সেই ভাইরাস আরো ও ভাইরাস জন্ম দিয়েছে একসময় তা অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে গিয়ে নেশায় পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশেও সারা বিশ্বে ক্রমেই এই প্রবণতা বেড়ে চলেছে বিষয়টি যদি কেউ কেবল নিজের ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলে কোন কথা ছিল না শেষ পর্যন্ত তা তো আর থাকছে না। কোন অবস্থাতেই সেই সেলফি তোলা থেকে আমরা এক বেলা বা একদিনও বিরত থাকতে পারিনা। সেলফি তুলতে গিয়ে এতটাই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছে যে স্থান-কাল পাত্র ভেদ সব গুলিয়ে একাকার করে ফেলছে। 


সেলফি  ভাইরাস
সেলফি

স্টাইলিস্ট পরিচয় দিতে গিয়ে নিজেকে নিতান্তই আহাম্মক পরিচয় দিচ্ছি অথচ কিছু বছর আগেও এই বিষয়টির এত পরিচিতি ছিল না। এটা ঠিক সেলফি কেবল বাঙ্গালীদের মাথার ভেতরেই জায়গা দখল করেনি বরং সারা বিশ্বের মানুষের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় এই সেলফি দাপটে। এখন কোন বড় বা ছোট অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে রীতিমতো সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। থাকে সেলফি কর্নার। কে বর কনের সঙ্গে সেলফি কিভাবে তুলতে পারছে কোন টেবিলে খাবার দেওয়া হয়েছে সবকিছুর সেলফি আপডেট সবার আগে আর ভালো হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে ।

কারো আমন্ত্রণে গিয়েও আমরা সেখানে নিজ দায়িত্ব ভুলে গিয়ে সেলফি আপডেট পাঠাতে ব্যস্ত থাকি। কার সেলফি কত ভালো ওঠে সে নিয়ে গবেষণা আরম্ভ হয় তারপর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়। একের পর এক লাইক কমেন্ট পড়তে থাকে। যুগ তো এখন এই লাইক কমেন্ট সে আটকে আছে। দেখা যায় কোন নেতার অনুষ্ঠানে গিয়ে সেই নেতার সঙ্গে সেলফি পোস্ট করায় মূল উদ্দেশ্য যে তার ইচ্ছা না থাকলেও নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের মুখ চেয়ে হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু সেলফি অত্যাচার সহসাই শেষ হয় না ।

এখন যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেলফি তুলতে যায় তারা নেহায়েত শখের বসে যায় এমনটা বলা ঠিক হবে না। কারণ মানুষ শখের বসে নিশ্চয়ই মৃত্যুকে বারণ করতে চায় না। আসলে সেলফি বিষয়টি একটি প্রেষ্টিজ ইস্যুর মত দাঁড়িয়ে গেছে। যে যত আলাদাভাবে সেলফি তুলতে পারবে তার তত বেশি লাইক পড়বে। তা সে সাপের মুখের কাছেই হোক আর কুমিরের মুখের সামনেই হোক যত আলাদা সেলফি পোস্ট হবে তত তাকে বেশি বাহবাহ দেয় মানুষ। কিন্তু এই বাহবা যে কেবল বোকামি ছাড়া আর অন্য কিছুই নয় এবং এটার জন্য জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যায় না তা কে কাকে বোঝাবে?

সেলফির ভয়াবহতা

তাই সেলফি তুলতে গিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে সেলফি তোলার নতুন নতুন উপায়। এই সেলফি তুলতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে মৃত্যু হয়েছে, কুমিরের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ,প্লেন থেকে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে, সিংহের খাঁচার সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ,সাপের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে কামড়ে মৃত্যু হয়েছে। এরকম অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঘটছে সেলফি তুলতে গিয়ে। এগুলো কেবল ছেলে মানুষই ছাড়া আর কিছুই নয় ।

বিজ্ঞানের সুবিধা নিতে গিয়ে আমরা হারিয়ে ফেলছি মানবিকতা মানবিকতা থাকলে তো আর মৃত মানুষের সামনে বসে সেলফি তোলার রুচি হতো না। খাদিজাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দর্শনার্থী নেত্রীর সেলফি ভাইরাল হয়েছিল ।আবার এক দেশে পেছনে বোন প্রসবের যন্ত্রণায় ছটফট করছে সামনে অন্য বোন সেলফি তোলায় ব্যস্ত। এরকম বহু ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। যেখানে আবেগের কোন দাম নেই আছে কেবল নিজেকে পরিচয় করানোর মিথ্যে প্রতিযোগিতা। এসব সেলফি তুলে কেউ বন্ধুদের লাইক পেয়েছে কেউ কমেন্টস পেয়েছে কেউ আহত হয়েছে আবার কেউ মারা গেছে যুগটা কেবল লাইক আর কমেন্টসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ যেন হয়ে আছে।

সেলফি তুলতে গিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা 


গত প্রায় এক দশকে বিশ্বজুড়ে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ প্রতিবছর সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এক গবেষণায় উঠে এসেছে গত 10 বছরে হাঙ্গরের আক্রমণে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার ৫ গুণ মানুষ মরেছে সেলফি তুলতে গিয়ে। দিন দিন স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো তাদের সেলফি ক্যামেরা উন্নত থেকে উন্নত তারও করছে। পাশাপাশি সেলফি স্টিকসহ ছবি তোলার নানা রকম অনুসঙ্গ আগমনের পর আরো সহজে সেলফি তোলা যাচ্ছে। ফলে সেলফি তোলার জোকো বাড়ছে। ভারতের জার্নাল অফ ফ্যামিলি মেডিসিন এন্ড প্রাইমারি কেয়ার পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে ২০১১ সালের অক্টোবর মাস থেকে 2017 সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সেলফি তুলতে গিয়ে ২৫৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় হাঙরের আক্রমণে মারা গেছে মাত্র ৫০ জন মানুষ। 

ক্রনিক সেলফাইটিস রোগ 

গবেষকরা বলছেন সেলফি তোলার আসক্তি সত্যি সত্যি একটা সমস্যা এবং আপনি যদি দিনে ছয়টির বেশি সেলফি তোলা এবং তার সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করার তাড়না বোধ করেন তাহলে বলতে হবে আপনার ক্রনিক সেলফাইটিস হয়েছে। সম্প্রতি দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম ট্রেন্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের থিয়াগারাজার স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট মিলে একটি জরিপ করেছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সেলফি মেয়েরা তরুণরা সেলফি তুলতে ঝুঁকি নেয় বেশি। এ কারণে সেলফি তুলতে গিয়ে মোট মৃত্যুর তিন চতুর্থাংশই ঘটে ছেলেদের ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে গিয়ে বা গুলি খেয়ে। 

আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ভারতে। জানা যায় মোট জনসংখ্যা ১৩০ কোটি মানুষের সেলফি তুলতে গিয়ে ভারতে ১৫৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী সেলফি তে মোট মৃত্যুর অর্ধেক। এটাকে রোধ করতে ভারতজুড়ে ইতিমধ্যে নো সেলফি জোন ঘোষনা করা হয়েছে। শুধু মুম্বাই শহরে 16 টি এমন এলাকা রয়েছে যেখানে সেখানে হরহামেশা সেলফি তোলায় ব্যস্ত একশ্রীর মানুষ। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কাজটি করে থাকেন তারা কখনো কখনো ঘটে দুর্ঘটনাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলফি নিয়ে ঘুরছে মজার মজার ঘটনা। আর তাইতো সেলফি তোলাকে এক ধরনের মানসিক রোগ বলেছেন একদল গবেষক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ