![]() |
| ২০২৩ সালে বাংলাদেশের কঠিন পাঁচটি চ্যালেঞ্জ। |
রাজনীতি
রাজনীতিতে ২০২২ সাল যেখানে শেষ হচ্ছে ২০২৩ সালের শুরুটাও ঠিক সেখান থেকে। নতুন বছরের বিএনপির আন্দোলন হবে ১০ দফা কেন্দ্রিক অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ও জনসভা সহ একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিএনপি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ১০ দফার বাস্তবায়ন ঘটাতে হলে তাদেরকে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এর জন্য দলটি মাঠের আন্দোলন জোরদার করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কোন দিকে আওয়ামীলীগ চেষ্টা করবে বিএনপি'র আন্দোলন মোকাবেলা করতে তবে আওয়ামী লীগ আবার এটাও বলছে নির্বাচনে তারা বিএনপি সহ সব দলেরই অংশগ্রহণ চায় সুতরাং সরকার পতনের বিএনপির আন্দোলন সেই আন্দোলন মোকাবেলায় সরকারের চেষ্টা একই সঙ্গে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি থাকবে যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো
এটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে কারন দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় মূলত দুটি খাত থেকে। রপ্তানি আয় এবং রেমিটেন্স থেকে। সাম্প্রতিককালে অবশ্য এ দুটো খাতেই আয় বাড়ছে। যদিও সেটা সংকট কাটানোর মত বড় অংকের নয়। আমাদের রপ্তানি ক্ষেত্রে এতে কিন্তু আমাদের সেই ট্রাডিশনাল আমাদের আরএমজি সেক্টর বলেন সেটার উপরে আমরা নির্ভরশীল আমাদের রেমিটেন্সও কিন্তু নতুন মার্কেট এরকম হয়নি আগামী কিছুদিনের মধ্যে যদি আসলে নতুনভাবে মার্কেট তৈরি করে এক্সপোর্ট করা বলেন বা আমাদের যারা রেমিটেন্স যোদ্ধা যাদের আছেন তাদেরকে আসলে আমরা বাইরে পাঠাতে না পারি এবং ফরমাল চ্যানেলে যদি আমরা তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারি এই চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে।
জ্বালানি সংকট
এই সংকটের মূল কারণ রাজশাহী ওপেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনো বেশ চড়া। রাশিয়ার অপরিচিত তেল বিক্রিতে মূল্য বেঁধে দেয়ার পরিণতিতে তেলের দাম আরো বাড়ছে ২০২২ সালে বাংলাদেশ তেল কম কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে আবারও উচ্চ মুল্যের কারণে জারণ সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ। প্রথম ছয় মাসের জ্বালানি বা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে খুব বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হবার আশা কম। তবে পরবর্তী ছয় মাসের ক্ষেত্রে সরকারের যে কিছু গৃহীত বা ঘোষিত কিছু অবস্থান এগুলোর যদি সরকার ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তাহলে ধীরে ধীরে কিছুটা পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে ডিজেলের থেকে শিফট হয়ে যদি সোলার প্যানেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যদি এগুলো করা হয় তাহলে কিন্তু ডিজেলের চাহিদা বেশ কমিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।
দক্ষিণে বড় দুটি প্রকল্প নিয়ে আশাবাদ
২০২৩ সালে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেল এবং চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প। প্রকল্প থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি পর্যটন ব্যবসা ও পরিবহন সুবিধা থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো দেশী উপকৃত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কর্ণফুলী টানেলটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভ যদি চীনের সঙ্গে রয়েছে ইনিশিয়াটিবের একটি অংশ বলা হচ্ছে এবং ২০২ কক্সবাজার যে রেলওয়ে টিম এটি এটিকে বলা হচ্ছে ট্রান্সলেশন রেলওয়ে। এটি একটি আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ। এই দুটো যোগাযোগ কাঠামোই আমাদের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৪ সালের ৩০ শে জানুয়ারি। সুতরাং এই সংসদ মেয়াদ শেষ করলে এর আগের তিন মাসের কোন একদিন জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। যথাসময়ে নির্বাচনের আয়োজন ইভিএম বিতর্ক সামাল দেয়া বিএনপি সহ সরকার বিরোধী দলগুলোর আস্থা অর্জন করে তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং নিরপেক্ষ করতে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশেরও চাপ রয়েছে বাংলাদেশের উপর। সব মিলিয়ে বলা যায় বছর যত এগুবে বাংলাদেশের সামনে ততই ঘনীভূত হতে থাকবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ।

0 মন্তব্যসমূহ